একজন যুবকের সময় উপযোগী প্রশ্ন ও তার উত্তর ণুরুদ্দিন ঈলদিয
লিখেছেন লিখেছেন এরবাকান ১৪ অক্টোবর, ২০১৪, ১০:০৬:৪৮ রাত
একজন যুবকের সময় উপযোগী প্রশ্ন ও তার উত্তর
প্রশ্ন: আসস্লামু আলাইকুম উস্তাদ। আমি ইন্টারনেট এর অপব্যবহার ার ইনটারনেট এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে চাই। এক্ষেত্রে আমার করনীয় সম্পর্কে বলবেন।
উত্তর: ওয়ালাইকুম সালাম
তুমি তোমার জীবন ও ইমানকে এক জিহাদ হিসাবে বিবেচনা করবে। ার জিহাদ হল সর্বদায় করনীয় একটি কাজ। একবার মাত্র করে ফেললেই যে কাজটি শেষ হয়ে যায় তার নাম জিহাদ নয়। জিহাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ হল, নামাযের মত প্রতিদিন ভাল কাজ করা এবং সবসময় সুন্দর চরিত্রের লালন করা। এই জন্য তোমাকেও একজন সত্যিকারের মুজাহিদ হতে হবে এই কাজ সমুহ করার মধ্য দিয়েই।শয়তানকে কি তুমি বলতে পারবে ‘’এই শয়তান তুই আমাকে ছেড়ে দে’’? তুমি যদি শয়তান এর প্ররোচনায় এক হাজার বারও অধপতিত হও তবুও তোমাকে একহাজার একবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।এর নামিই হল জীবন এর নামিই হল জিহাদ। তুমি এবং তোমার আগে সকল যুবকই এরকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।সবার আগে তোমার পরিবেশেকে সুন্দর করবে।কারন তোমার পরিবেশ তোমাকে প্রভাবিত করে। দ্বিতীয়ত হয়ত কাজের তুলনায় তোমার হাতে সময় বেশী। তুমি যাতে অনেক বেশী পরিশ্রান্ত হয়ে বিছানায় যাও এমন ভাবে তোমার দিনকে সাজাবে। শুধুমাত্র পড়াশুনা ার ই্টারনেটকে নিয়ে কোন জীবন হতে পারে না। কারন ভাল একজন মুমিন গোটা উম্মতের আশা ভরসার আশ্রয়স্থল। সময়ের সাহসী যুবক হিসাবে ছাত্রজীবনে যে কাজ সমূহ করা একান্ত বাঞ্ছনীয় সেগুলা হল।
১। বৃত্তি এবং বাবার টাকার উপর নির্ভর না করে ছোট হালাল কাজ করে নিজের উপার্জন দিয়ে চলার চেষ্টা করা।
২।প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ পৃষ্ঠা বই পড়ার চেষ্টা করা।
৩। লেখালেখি/ কবিতা/ বিভিন্ন শিল্পকর্মের দিকে মনযোগী হওয়া যেটা ভাল পারবে সেটার দিকে মনযোগী হওয়া।
৪। নিজের পছন্দের খেলাধুলা করা / যেটা তার দেহকে সুঠাম করবে।
৫। নিজের থেকে যারা চরিত্রে অ নৈতিকতায় উত্তম তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা। এমনকি অসতচরিত্রের কোন বন্ধুকেও তার ফেসবুক বা অন্য কোথাও স্থান না দেওয়া।কেননা কচ্ছপ আস্তে আস্তে ঘোড়া কেও ছাড়িয়ে যায়।
৬। সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।যেকোনো সংগঠনে বা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে সেখানে দায়িত্ব পালন করা।
৭। অবশ্যই তার একজন শিক্ষক থাকবেন। যিনি তার অবস্থার প্রেক্ষিতে তাকে সঠিক পথে পরিচালনার ব্যাপারে ভুমিকা পালন করবেন।
৮। সর্বদায় অতীত কাজের সমালবদায় করবে। অতীতের ভুলের জন্য কাফফারা আদায় করবে এবং তওবা করবে।
৯। সবসময় কুরআন থেকে শক্তি সঞ্চয় করবে। কুরআন ছাড়া থাকা হল ব্যাটারি ছাড়া কোন কিছুর মত।
১০। যেকোনো একটি মাসজিদের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অন্তত সে মাসজিদে নিয়মিত নামায আদায় করবে।
১১। ধৈর্যশীল হওয়ার চেষ্টা করা। সকল বিপদ মুসিবাতে\ বৈষয়িক সকল পরীক্ষায় \ শয়তানের সকল প্ররোচনায় \ নফসের সকল চাওয়াকে দূরে ঠেলে দিয়ে সবসময় ধৈর্য ধারন করা।
বিষয়: বিবিধ
১০৮৬ বার পঠিত, ৩ টি মন্তব্য
পাঠকের মন্তব্য:
এ উপদেশকে আমি নিজের জন্য গ্রহণ করলাম ।
তারাচাঁদ লিখেছেন : পঁচাত্তর বছর আগে ওস্তাদ হাসান-আল-বান্নাও তো একই উপদেশ দিয়েছেন ।
এ উপদেশকে আমি নিজের জন্য গ্রহণ করলাম ।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, জাযাকাল্লাহ
মন্তব্য করতে লগইন করুন