খবরদার,আমি আর কখনো যেন এসব বই-টই ফারহানের হাতে না দেখি !
লিখেছেন লিখেছেন Mujahid Billah ০১ জুলাই, ২০১৪, ০১:১৫:০৮ রাত
-ঠক..… ঠক..…। ঠক..…
- কে?
- চাচীমা,আমি আরিফ।
- এত রাতে কি চাই?
(কথার মধ্যে স্পষ্ট একটা বিরক্তির চাপ)
- ফারহানকে নামাজে যাওয়ার জন্য ডাকতে এসেছি।
- ফারহান ঘুমুচ্ছে,তুমি যাও…
(অনেকটা অপমানিত হয়েই ফিরে এল আরিফ।ফজরের
আজান কানে এল তার।কি এক মধুর বাতাস ছুঁয়ে গেল তার
পুরো শরীরকে…
সে মসজীদের দিকে রওনা দেয়…
আরিফের বাবা আজ দুই বছর প্যারালাইসিসে আক্রান্ত।
যৌথ ফ্যামিলি তাদের।বলতে গেলে এখন অনেকটা তার
চাচার দয়ার উপর পেট চলে তাদের।
চাচার কাঁধে খেতে হয় বলে খাবার টেবিলে,নাস্তার
টেবিলে নানা রকম কথা শুনতে হয় চাচীর মুখ থেকে…
এরকমের খোচা-গুঁতো খেয়েই দিন চলে আরিফদের।
আরিফের মা নিভৃতে চোখের পানি ফেলে কাঁদেন এসব
শুনে…
বাবাটা তার থেকেও নেই…
আরিফের চাচাত ভাই এবার একাদশ প্রথম
বর্ষে উঠবে…
একদিন আরিফ ফারহানকে "চরিত্র গঠনের মৌলিক
উপাদান" নামের একটি বই পড়তে দেয়।
তার চাচীমা ফারহানের হাতে এই বইটি দেখে খুব
ক্ষেপে গেলেন।
বললেন- আরিফ, এসব বই-টই তুমি পড়িও,ফারহানের
পড়া লাগবেনা।
খবরদার,আমি আর কখনো যেন এসব বই-টই ফারহানের
হাতে না দেখি।
(এটা বলেই বইটা ফারহানের হাত থেকে নিয়ে আরিফের
দিকে ছুঁড়ে মারল তিনি।
আরিফ বইটা নিয়ে চলে এল।
এর ঠিক দুইমাস পর আরিফের চাচা গ্রাম
ছেড়ে শহরে চলে আসে।আরিফরা গ্রামেই রয়ে যায়।
(দুই বছর পর)
একদিন চাচীমার ফোন পেয়ে আরিফ শহরে চাচার বাসায়
আসল।
চাচীমা বলল- বাবা আরিফ,ফারহানকে তুমি বাঁচাও।
- কেন?কি হয়েছে তার?
- সে এখন পড়াশুনা করেনা।মদ খায়।মেয়েদের
পিছনে ঘুরাঘুরি করে।তোমার চাচা দেশে এসে এসব
দেখলে আমাকে মেরে ফেলবে।কিছু একটা কর বাবা…
আরিফের ঠিক দুই বছর আগের কথা মনে পড়ে গেল।
একদিন এই ভদ্র মহিলাই
"চরিত্র গঠনের মৌলিক উপাদান" নামের বই
ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন।
ছেলের যে চরিত্র গড়ে উঠতে তিনি সেদিন
ছেলেকে আস্কারা দিয়েছেন,আজকে ছেলের সেই
চরিত্রকে তিনি ভয় পাচ্ছেন..
অথচ,সেদিন ওই ছোট্ট
বইটাকে যদি ছুঁড়ে না মেরে,ছেলেকে সেটা পড়ার
এবং তদনুযায়ী চরিত্র গঠনের আদেশ দিতেন,
তাহলে আজকে তাকে তার সন্তানের এই ভয়ঙ্কর চরিত্র
দেখতে হতনা।
আজকে সন্তানের কুৎসিত চরিত্রের জন্য তাকে শঙ্কিত
হতে হতনা…
বিষয়: বিবিধ
১১০০ বার পঠিত, ২ টি মন্তব্য
পাঠকের মন্তব্য:
মন্তব্য করতে লগইন করুন