এই মানচিত্র আর জাতীয় পতাকা কতদিন আমরা ধরে রাখতে পারব ?
লিখেছেন লিখেছেন তারাচাঁদ ৩০ জানুয়ারি, ২০১৪, ১১:৪০:০৬ রাত
আজ দশট্রাক অস্ত্র মামলার রায় হয়েছে । সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াতের আমীর ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মজিবুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, উলফার নেতা পরেশ বড়ুয়া, এনএসআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা উইং কমান্ডার শাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক মেজর (অব.) লেয়াকত হোসেন, এনএসআইয়ের মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান । একটি অস্ত্র মামালায় একসাথে এতজনের ফাঁসীর আদেশ কোন আইনে কেমন করে দেয়া হল, তা সম্ভবত বিচারক নিজেও বলতে পারবেন না ।
২০০৪ সালের ১লা এপ্রিল যখন অস্ত্র ধরা পরে, তার চার বছর পর পর্যন্ত কট্টর জামাআত বিরোধীরা, এমনকি 'র' পর্যন্ত নিজামী সাহেব, এনএসআইয়ের পরিচালক, ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক, --এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার চিন্তা করেনি । পর পর দুইবার তদন্ত করার পরও এদেরকে সন্দেহ করা হয়নি । মামলার আসামী হিসাবে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রথমবার মামলা হওয়ার সাত সাত বছর পর, ২০১১ সালে । নিজামি সাহেবের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সম্পাদিত দৈনিক ইত্তেফাকে এবং মতিউর রহমান সম্পাদিত প্রথম আলোয় । সে সময় এদেশে ইণ্ডিয়ান গোয়েন্দা সংস্থা ভীষণ ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছে । তখনই বুঝা গিয়েছিল, ইন্ডিয়া ভীষণ একটা ফন্দি আঁটছে । 'র'-এর এজেন্টরা আদালতে বিচার চাইবার আগে তাদের প্রি-পেইড এবং পোস্ট-পেইড এজেন্টদের মাধ্যমে মিথ্যা মামলার গ্রাউণ্ড তৈরী করে । তারা তাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর মামলায় নিজামী সাহেব, মে. জে. রেজ্জাকুল হায়দার, ব্রি. জে.আবদুর রহিমদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে । তারপর ক্রমাগতভাবে তাদের পোষ্য-পত্রিকার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে প্ররোচনা চালাতে থাকে । প্ররোচনায় তারা যতটুকু সফল হয়েছে, এর চেয়ে বেশি সফল হয়েছে বিচারের রায়ে । কোন আইনে ফৌজদারী আইনের কোন ধারায়, কীভাবে এ ফাঁসীর রায় দেয়া হল তা আমাদের মোটেও বোধগম্য নয় । রায় কি ইণ্ডিয়ান এজেন্টরা লিখে দিয়েছে, নাকি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিবেকহীন বিচারক এস এম মজিবুর রহমান তাদের কাছে বিক্রয় হয়ে লিখে দিয়েছেন সেটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয় । তবে এ দু'টির একটি নিশ্চয়ই হয়েছে । দেশের গোয়েন্দা বিভাগ এবং পুলিশের সাথে প্রতিযোগিতা করে বিচার বিভাগের কতিপয় বিচারক ইণ্ডিয়ার দাসত্ব কবুল করে নিয়েছে, এ ব্যাপারে আমদের কোন সন্দেহ নেই ।
আমাদের দেশের আত্মমর্যাদাহীন এবং বিক্রয় হয়ে যাওয়া গোয়েন্দা বিভাগ দশ ট্রাক অস্ত্রমামলার বিচারের জন্য যেভাবে সাক্ষ্য যোগাড় করেছে, আমি এখানে মাত্র দুটি ছোট্ট উদাহরণ দিব ।
১) মতিউর রহমান নিজামী সাহেব যখন শিল্পমন্ত্রী, তখন শিল্প সচিব ছিলেন যথাক্রমে নূরুল আমিন এবং শোয়েব আহমদ, এবং বিসিআইসি'র চেয়ারম্যান ছিলেন মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান । (সচিব) শোয়েব আহমদ পরে মইন ইউ আহমদের গড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হয়েছিলেন । শোয়েব আহমদ এবং মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামানকে প্রথমে জোর করে, পরে মৃত্যদণ্ডের ভয় দেখিয়ে নিজামী সাহেবের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য আদায় করা হয় । জীবনের ভয়ে তারা তা করতে বাধ্য হন ।
২) এনএসআইয়ের পরিচালক (সচিব পদমর্যাদার) ছিলেন মে. জে. রেজ্জাকুল হায়দার, এবং ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন ব্রি. জে. আবদুর রহিম । তারা দুজনই ছিলেন দেশপ্রেমিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা । তারা সব সময় ইণ্ডিয়ার চক্রান্তের ব্যাপরে সতর্ক থাকতেন, এবং তারাই ১৯৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট আবদুর রহমান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান-প্রচেষ্টা রুখে দিতে বেশ জোরালো ভূমিকা পালন করেন । 'র'-কর্তৃক সিলেকটেড আমাদের বর্তমান গোয়েন্দা বিভাগ এ দুজনকে রিমাণ্ডে নিয়ে সিলিংয়ের সাথে ঝুলিয়ে পিটাতে পিটাতে অজ্ঞান করে ফেলে । একটি স্বাধীন দেশের পক্ষে স্বাধীনতাপ্রিয় সিনিয়র আর্মী অফিসারদেরকে এমন অমানুষিকভাবে নির্যাতন করা সম্ভব ? এর মাধ্যমে বর্তমান আর্মী অফিসারদেরকে স্পষ্ট সিগন্যাল দেয়া হয়েছে । গোয়েন্দা বিভাগ তাহলে 'র'-দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে !
বিচার বিভাগের কতিপয় বিচারকের বিবেকহীনতার কিছু উদাহরণঃ
১) ছয় বছর আগে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ফৌজদারী মামলায় কোন অভিযুক্তকে একনাগাড়ে তিনদিনের বেশি রিমাণ্ড দেয়া যাবে না । অভিযুক্তকে কাঁচ-ঘেরা ঘরে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে, এবং তাকে কোনরকম নির্যাতন করা যাবে না । আমরা দেখেছি, মাহমুদুর রহমানকে রিমাণ্ডে নির্যাতন করতে করতে অজ্ঞান করে ফেলা হয়েছে, জুনায়েদ বাবুনগরী ইচ্ছামত পেটানো হয়েছে । শিবির সভাপতিকে ৫৬ দিনের রিমাণ্ড দেয়া হয়েছে, থানায় এবং রিমাণ্ডে নির্যাতন করে তার হাড়গোড় ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে । সেই নন্সসেন্স বিচারকের যদি সামান্যতম বিবেক থাকত, তাহলে সে কি ৫৬ দিনের রিমাণ্ডে দিতে পারত ? অর্ধচেতন শিবির সভাপতিকে কোর্টে হাজির করা হল পাঁজাকোলে করে । বিচারক তখন প্রতিবন্ধি শিশুর মত তাকিয়ে দেখল; কিন্তু কোন অ্যাকশন নিল না । এদের বিবেক বলতে কি কিছু আছে ?
২) যুদ্ধাপরাধ ট্টাইবুনালের বিচারক নামের আজব চিড়িয়ারাও কম যান না । নিজামুল হক নাসিম নিজে কুবুদ্ধি দিয়ে সাঈদী সাহেবের সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণ করিয়েছেন । অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষী ছিল গড়পড়তা ৩০জন । আর অভিযুক্তদের জন্য অ্যালাউ করা হল তিন জন করে সাক্ষী । তাও আবার সাক্ষীদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ডিবি পুলিশ বিশ্রী গালিগালাজ করে, ফ্যাসিবাদি কায়দায় হুমকী দিয়ে আসত, অভিযুক্তদের পক্ষে কেউ যেন কোর্টে সাক্ষ্য দিতে না আসে । ইন্ডিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী 'যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের' বিচারকদের যোগসাজসেই এন্টি-ইণ্ডিয়ান ইসলামীর নেতাদের ফাঁসী প্ল্যান করা হয়েছিল । শেষ পর্যন্ত হলও তা-ই ।
৩) আমরা এক মঞ্জিল মোরশেদ এবং এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে জানি, যাদের কাজ ছিল পান থেকে চুন খসলেই 'সুয়োমুটো রুল' জারি করা । তারপর ইচ্ছামত রুল জারি করা । কুষ্টিয়ার কোন জটাধারী বাউলকে তওবা পড়ানো হয়েছে, রাজশাহীতে কোন হেডমাস্টার তার ছাত্রীদেরকে বোরখা পরতে আদেশ দিয়েছেন, তা পত্রিকায় ছাপা হওয়া মাত্রই মনজিল-মানিকরা লাফ দিয়ে উঠে । কিন্তু, যখন র্যাব-পুলিশ কর্তৃক সরাসরি গুলি করে মানুষ হত্যা কর হয়, রিমাণ্ডে নিয়ে ইলেকট্রিক শক দিয়ে পঙ্গু করে দেয়া হয়, যখন হাজারো মানুষ গুম হয়, খুন হয়, বুলডোজার দিয়ে বাড়ী-ঘর ভেঙ্গে দেয়া হয়, তখন তখন মানিক মোরশদরা মুখে কুলুপ এঁটে থাকে ।
৪) আপীল বিভাগে আবদুল কাদের মোল্লার আপিল শুনানীর সময় মোল্লা সাহেবের আইনজীবিগণ বার বার বলার চেষ্টা করেছেন, এই মোল্লা সেই কসাই কাদের নন, এই মোমেনা (সাক্ষী) সেই মোমেনাও নন । আপীল বিভাগের আওয়ামী 'বিচারকগণ' তো ন্যায় বিচার করতে বসেছেন । তাই তারা আইনজীবিদের কথা একমিনিটের জন্যও শুনতে চাননি । যুক্তি উত্থাপন করতে দিলেই তো আসল বিষয়টা বের হয়ে আসবে , তাহলে আওয়ামী লীগের 'অঙ্গীকার বাস্তবায়ন' হবে কীভাবে । বিচারের চেয়ে ইণ্ডিয়ার অ্যাসাইনমেন্ট যারা বাস্তবায়ন করতে পারবে, তারাই এদেশের ট্রাইবুনালের এবং সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য ।
ইণ্ডিয়া যে এত সুপরিকল্পিতভাবে প্রতিশোধ নিতে পারে--তা এদেশে মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না ।
১) ১৯৬৫ সালে ইণ্ডিয়া-পাকিস্তান যুদ্ধে ইণ্ডিয়া গো-হারা হারে । তখন তারা প্রতিশোধ নেবার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় । এবং ছয় বছরের মাথা তারা প্রতিশোধ নিয়েই ছেড়েছে । ১৯৭১ সালের ১৭ই ডিসেম্বর ইণ্ডিয়ার পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ইণ্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সদম্ভে ঘোষণা করেছিলেন, "আমরা হাজার সালের বদলা নিয়ে নিয়েছি "।
২) বাংলাদেশের দক্ষিণে, হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর ভাটিতে তালপট্টি নামের একটি দ্বীপ জেগে উঠে । ইণ্ডিয়ার সৈন্যবাহিনী গিয়ে সে দ্বীপে অবস্থান নেয় । ১৯৮১ সালের মার্চ বা এপ্রিল মাসের দিকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, "এ তালপট্টি আমাদেরই" । এর কিছুদিন পরেই তিনি নিহত হন ।
৩) ২০০১ সালে কয়েকশত ইণ্ডিয়ান সীমান্তরক্ষী রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের বেশ ভিতরে ঢুকে পড়ে । বাংলাদেশের সদানিপীড়িত জনতার হাতে অজ্ঞাতসংখ্যক হানাদার মারা পড়ে । ইণ্ডিয়া তাদের সে ব্যাথা ভুলে নি । ঠিক আট বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতায় পিলখানায় ৫৭জন আর্মী অফিসার হত্যার মাধ্যমে ইণ্ডিয়া তাদের বিএসএফ হত্যার প্রতিশোধ নেয় ।
৪) ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে ভোটের সমীকরণে দেখা যায়, দেশের ইসলামপন্থী জাতীয়তাবাদী শক্তি যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে, তাহলে ইণ্ডিয়াপন্থী সেক্যুলার শক্তি কখনোই ক্ষমতায় আসতে পারে না । ২০০৬ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হল ভিন্ন চাল । সেক্যুলারদের দিয়ে আন্দোলন করিয়ে সেই "আন্দোলনের ফসল" হিসাবে মইন উ আহমদকে ক্ষমতা দখল করানো হল, এবং তাকে দিয়ে জরুরী অবস্থা জারী করানো হল । দুবছর পর সমঝোতার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রো-ইণ্ডিআয়ন সেক্যুলার শক্তিকে ক্ষমতায় আনা হল । তারপর শুরু হল এন্টি-ইণ্ডিয়ান শক্তিকে স্ম্যাশ করার কাজ । পান থেকে চুন খসলেই ফাঁসী-গুম-খুন । লোভ দেখিয়ে, টোপ দিয়ে, মৃত্যুর হুমকী দিয়েও বশে আনতে না-পেরে ফ্যাসিবাদী কায়দায় ইসলামপন্থী নির্মূল অভিযান চালানো হচ্ছে ।
আমার খুবই আশ্চর্য লাগে, এদেশের পুলিশ বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনী, কতিপয় বিচারক, এবং মন্ত্রিপরিষদ কিভাবে ইন্ডিয়ার দাসত্ব কবুল করে নিল ! কত নিপূণভাবে কাজ করলে এত সংখ্যক মানুষকে বশ করা যায় !
৫) স্বাধীনতা মানুষের আত্মার চিরন্তন তৃষা । ইণ্ডিয়ার পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যও পয়ষট্টি বছর ধরে স্বাধীনতার স্বাদ পেতে আকুল হয়ে আছে । স্বাধীনতার জন্য তাদের দরকার ছিল অস্ত্র । বিদেশ থেকে একটি অস্ত্রের চালান সেদিকেই যাচ্ছিল । ২০০৪ সালের এপ্রিলে চিটাগাংয়ে এসে দশ ট্রাক অস্ত্র আটক হয় । ইণ্ডিয়া হয়ে পড়ে হিংসাপরায়ন । এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশপ্রেমিক পাঁচজন আর্মী অফিসার--যারা তাদের জীবন যৌবন দিয়ে দেশকে ইন্ডিয়য়ার প্রভাবমুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন,-- তাদের আটকানো হয় । এরা আমাদের দেশের মোহনলাল, মীরমদন । আজ তাদেরও ফাঁসীর রায় দেয়া হয়েছে ।
...................................................................................................
From Shyikh Mahdi's Facebook
মন্ত্রীদের কথা বাদই দিলাম, সেনা অফিসার দু'জনের একটু ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা যাক। তারা হলেন ব্রিগেডিয়ার (অবঃ) রহিম এবং মেজর জেনারেল (অবঃ) রেজ্জাকুল হায়দার। বিএনপি'র প্রথম টার্মে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিম যখন সেনা অভ্যুথানের চেষ্টা চালিয়েছিল, তখন ব্রিগেডিয়ার রহিম ৪৬ ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে তা প্রতিহত করেন এবং জেনারেল নাসিমকে গ্রেপ্তার করে নিজ হেফাজতে রাখেন। ১৯৯৬ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিমকে বাধ্যতামুলক অবসরে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিমকে এনএসআই মহাপরিচালক বানালে একটি বিশেষ প্রতিবেশী দেশের স্বার্থে আঘাত লাগে এবং তাদের অনেক মিশন ব্যর্থ হয়। এই হলো তার প্রতিশোধ।
আর ডিজিএফআই থেকে তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার রেজ্জাকুল হায়দারকে প্রমোশন দিয়ে এনএসআই'তে মহাপরিচালক বানিয়ে নিয়ে আসা হয়। মেজর জেনারেল হায়দার জেএমবি'কে ধংস করে দেন এবং গোপন গোয়েন্দা কার্যক্রমের দ্বারা ঐ বিশেষ দেশের অনেক পরিকল্পনাও বানচাল করে দেন। এই হলো তার শাস্তি।
অবশ্য পরাধীন দেশে সত্যিকার দেশপ্রেমিকের জন্য মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি'র চেয়ে বড় পুরস্কার আর কিছুই হতে পারে না। সেটা সিপাহী বিপ্লবের নাম না জানা অসংখ্য আলেম উলামা থেকে ক্ষুদিরাম-সূর্যসেন হয়ে আজকের দিনের দেশপ্রেমিকদের জন্যও অমোঘ সত্য !!!
Sazzad Chowdhury written in the page of Free Fair Freedom
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিম ও মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দারকে বিডিআর ষড়যন্ত্র বা হেলিকপ্টার দূর্ঘটনা ঘটিয়ে হত্যা করা যায়নি। কিন্তু যে কারনে জেনারেল শাকিল, কর্ণেল গুলজার সহ ৫৭ সেনাকর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই একি কারনে হিন্দুস্থান ও তাদের গোলাম আওয়ামী লীগের কাছে তাদের ২ জনকে হত্যা করা জরুরী ছিল। রেজ্জাকুলের হওয়ার কথা ছিল সেনাপ্রধান, আর রহিম ছিলেন বাংলাদেশপন্হী সাহসী সেনানায়কদের অন্যতম।
----------
**** সরকার যদি হিন্দুস্থানের গোলাম না হয়ে বাংলাদেশপন্হী হতো, তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা,নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য জেনারেল রেজ্জাকুল ও ব্রিগেডিয়অর রহিম যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তার জন্য তাদের সর্বোচ্চ সম্মান ও পুরস্কার প্রদান করতো।
কিন্তু হায় শেষ পর্যন্ত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা বানিয়ে তাদের প্রহসনের বিচারে মৃত্যুদন্ডের শাস্তি দেয়া হলো।--------------
WE HONOR THEM PRAY FOR THEM FOR THE SAKE OF BANGLADESH.
WE BELEIVE 'HERO NEVER DIE'....
..................................................................................................
তাই আমি (তারাচাঁদ) ভাবছি,
এদেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদ, গোয়েন্দা বিভাগ, পুলিশ, বিচার বিভাগের বেশ কিছু বিচারক যখন ইণ্ডিয়ার বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে, তখন, আমার মনে খুবই প্রশ্ন জাগছে, দেশটা এখনও স্বাধীন আছে তো ! মানচিত্র আর জাতীয় পতাকা কতদিন আমরা ধরে রাখতে পারব ? নাকি আমাদের অবস্থা হবে কাশ্মীর, হায়দরাবাদ, সিকিমের মত ?
বিষয়: বিবিধ
১৫৯৩ বার পঠিত, ১৭ টি মন্তব্য
পাঠকের মন্তব্য:
এ জাতি কি এখনো ঘুম থেকে জাগবেনা?
আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিনা। তাই আপনার শেষ কথাটুকুই নিজের মনের কথা হিসেবে তুলে দিলাম
হে আল্লাহ, মোহনলাল, মীরমদনদের এখন ফাঁসী দেয়া হচ্ছে, তুমি আমাদের জন্য ইউসুফ বিন তাশফিন পাঠাও ।
বাংলাদেশের অবস্থা হয়েছে তাই। উপরে উপরে দেশ ও সরকার - ভিতরে মূলতঃ এ্যাবসুলুট গোলামের খোয়াড় আর তাদের দেখার জন্য দফাদার।
ঠিকই বলেছেন ।
মন্তব্য করতে লগইন করুন