ধর্মনিরপেক্ষতা এবং কুফরী কি সমার্থক?
লিখেছেন লিখেছেন ড: মনজুর আশরাফ ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩, ০৭:৪০:৩০ সন্ধ্যা
-- এক --
ধর্মনিরপেক্ষতা এমন একটি ধারণা যা সরকারকে অথবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে পৃথক করে দেয়।
"একটি দৃষ্টিভঙ্গি যা ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে আলাদা করে দেয়।"
একটি আইনগত বিষয় যা নৈতিক বিচারকে এমন ভাবে তৈরী করে যা ধর্মীয় সংস্কার, পারলৌকিক পুরস্কার বা সাস্তি থেকে পৃথক করে দেয়।"
(সূত্র: http://en.wikipedia.org/wiki/Secularism)
এই সংজ্ঞা গুলোর মূল কথা হল ধর্মনিরপেক্ষতা এমন একটি মতবাদ যা দ্বারা ইসলামকে(যা পরিপূর্ণ জীবণ ব্যবস্থা) রাষ্ট্র,আইন ও সামাজিক নৈতিকতা হতে মুক্ত রাখা এবং মানুষের জীবনের ব্যক্তিগত বিষয় হিসাবে সীমাদ্ধ রাখা।
এখন দেখুন কুরআন এ ব্যপারে কি নির্দেশনা দিয়েছে --
أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ ۚ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَٰلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ
يُرَدُّونَ إِلَىٰ أَشَدِّ الْعَذَابِ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُون
তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই।কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন। (s-02,v-85)
وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ
যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী আইন পরিচালনা করে না, তারাই কাফের। (s-5,v-44)
وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই জালেম।(s-5,v-45)
وَلْيَحْكُمْ أَهْلُ الْإِنْجِيلِ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ ۚ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই পাপাচারী।(s-5,v-45)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ
হে ঈমানদার গন! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ কর না। নিশ্চিত রূপে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
অতএব চিন্তা করুন - ধর্মনিরপেক্ষতা এবং কুফরী কি একই বিষয় নয়? তাই মুসলিম হবেন না ধর্মনিরপেক্ষ / কাফির হবেন?
-- দুই --
"দ্বীন" শব্দের চারটি অর্থ কোরআনের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়
১-শক্তি, আধিপত্য
২- দাসত্ব, আনুগত্য
৩- কর্মফল, প্রতিফল
৪- আইন, বিধান, ব্যবস্থা
এই চতুর্থ অর্থ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের সাথে সাংঘর্ষিক। কেননা, তাদের মূল বক্তব্যই হল কুরআন ঠিক আছে, ধর্ম ঠিক আছে। কুরআন আর ধর্ম নিজ নিজ জায়গায় ঠিক থাকবে, আর আইন, বিধান, ব্যবস্থা এগুলো মানুষ তৈরি করবে।
কিন্তু কুরআন দ্বীন শব্দের আওতার মধ্যে দেশের ব্যাবস্থা, আইন, বিধান সবগুলোকেই নিজের করে নেয়। সূরা নূরের ২ নং আয়াত, আল্লাহ বলেন, ব্যভিচারী-ব্যভিচারিনী উভয়কে একশ করে বেত্রাঘাত করো। আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তোমরা যেন তাদের উপর দয়া না করো। এখানে বেত্রাঘাত করা হচ্ছে রাষ্ট্রের আইন। একে "দ্বীন" শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। আর আল্লাহ নির্ধারিত এই দ্বীন বা আইনের প্রয়োগের ব্যাপারে কোন ধরণের অবাঞ্ছিত দয়া না করার জন্য আল্লাহ হুশিয়ার করে দিয়েছেন।
ব্যবস্থা, বিধান, আইন অর্থে আল্লাহর নির্দেশ হল:
আর এমনি করে আমরা ইউসূফের জন্য পথ বের করেছি। বাদশার দ্বীনে (আইনে) তার ভাইকে পাকড়াও করা তার জন্য বৈধ ছিলনা। সূরা ইউসূফঃ ৭৬
শাসন কর্তৃত্ব আল্লাহ ছাড়া আর কারো নয়, তারই নির্দেশে তিনি ব্যাতিত আর কারো ইবাদাত করোনা। ইহাই সত্য সঠিক দ্বীন। সূরা ইউসূফঃ ৪০
তারা কি এমন শরীক বানিয়ে বসেছে, যারা তাদের জন্য দ্বীনের ব্যাপারে এমন সব আইন বিধান রচনা করেছে, আল্লাহ যার অনুমতি দেননি, দেননি কোন হুকুমে। সূরা আশ শূরাঃ২১
অতএব আবারো চিন্তা করুন - মুসলিম হবেন না ধর্মনিরপেক্ষ / কাফির হবেন?
বিষয়: বিবিধ
২৫৫৬ বার পঠিত, ০ টি মন্তব্য
পাঠকের মন্তব্য:
মন্তব্য করতে লগইন করুন