মুনসী মুহম্মদ মেহেরউল্লাঃ এক কিংবদন্তির কথা বলছি
লিখেছেন লিখেছেন প্রেসিডেন্ট ০২ ডিসেম্বর, ২০১৪, ০৩:২৫:৪৬ দুপুর
পলাশীর আম্রকাননে ষড়যন্ত্রকারী জগৎশেঠ, উঁমিচাঁদ, রায়দুর্লব, রাজভল্লব, ঘসেটি বেগম, নন্দকুমার আর বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর ও ইয়ারলতিফদের সহযোগিতায় নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর এতদঞ্চলের মুসলমানদের উপর নেমে আসে এক মহাদূর্যোগ, অন্ধকারের অমানিশা। এর পূর্বে শিক্ষা দীক্ষা, সহায় সম্পত্তিতে, পেশাদারিত্বে সর্বত্র ছিল মুসলমানদের জয়জয়কার। অতি উদার মুসলিম শাসকরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্বরূপ ভিন্নধর্মের লোকদেরও নিয়োগ দিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ পদে। তবে শিক্ষা দীক্ষায় মুসলমানরা ছিলেন তখন বেশ এগিয়ে। বাংলার পাশাপাশি আরবী, ফারসী, ঊর্দূতেও ছিল মুসলমানদের অসাধারণ দক্ষতা। নিজেদের যোগ্যতা বলেই সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে আসীন হতেন তারা।
ইংরেজরা এসেই এদেশীয় কূটচক্র চরম সাম্প্রদায়িক ব্রাহ্মণদের সহায়তায় রাষ্ট্রের সকল পর্যায় হতে সম্ভ্রান্ত মুসলমানদের উচ্ছেদ শুরু করে। এমনকি মুসলমানদের জমিদারী, লাখেরাজ সম্পত্তিগুলোর মালিক বনে যায় তাদেরই কর্মচারী, গোমস্তা, দেওয়ান, খাজনা আদায়কারী বর্ণ হিন্দুরা। রাষ্ট্রীয় পর্যায় হতে নিষিদ্ধ করা হয় আরবী, ফারসী, ঊর্দূ। তিন চারটি ভাষা জানা শিক্ষিত মুসলমানদের কৌশলে করা হয় অযোগ্য। ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও মুসলমানদের শিক্ষার সুযোগ সংকুচিত করা হয়।
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর মুসলমানদের বিরুদ্ধে নিধনযজ্ঞ নতুন মাত্রা পায়। দলে দলে খৃষ্টান মিশনারীরা এদেশে এসে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। এর পাশাপাশি বন্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর মত কিছু চরম সাম্প্রদায়িক অপসাহিত্যিকের উদ্ভব ঘটে। বন্কিমচন্দ্র মুসলিম নিধনে নানাভাবে উস্কানি দেন এবং এ উস্কানি চরম মাত্রায় প্রকাশ করেন ‘বন্দে মাতরম’ এ যেটি বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্তোত্র। যারা মুসলমানদের সান্নিধ্য পেলে একসময় নিজেদের ধন্য মনে করত, তারা মুসলমানদের ম্লেছ, কাপালিক, অচ্ছূত বলা শুরু করল।
এসব নোংরামির বিরুদ্ধে যে কয়জন ক্ষণজন্মা মুসলিম মনীষী নোংরামি, সাম্প্রদায়িকতা ও উস্কানি পরিহার করে যুক্তি প্রমাণের শানিত তরবারি দিয়ে লেখনীর মাধ্যমে রুখে দাঁড়ালেন, তাঁদের মাঝে অন্যতম হচ্ছেন মুন্সী মুহম্মদ মেহেরউল্লা।
মুনসী মেহেরউল্লা ১৮৬১ সালের ২৬ ডিসেম্বর যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার(বর্তমানে জেলা)অন্তর্গত কালিগঞ্জ থানার ঘোপ গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ঘোপ গ্রামটি ঐতিহাসিক বারবাজার সংলগ্ন। এই বারবাজার হতেই সমগ্র দক্ষিণ বঙ্গে ইসলামের সুমহান বাণী প্রথম প্রচার করেন হযরত বড়খান গাজী(গাজী কালু চম্পাবতী)। এরপর যে মহান মনীষীর আগমনে বারবাজার ধন্য হয় তিনি হযরত খানজাহান আলী। তার বারো জন শিষ্যের নাম অনুসা্রেই এই স্থানের নাম হয়েছে বারবাজার। এখান থেকেই তিনি বাগেরহাট অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। মেহেরউল্লার পৈতৃকবাড়ি চুরামনকাটী(বর্তমানে মেহেরউল্লাহ নগর) সংলগ্ন ছাতিয়ানতলা গ্রামে। তাঁর আব্বা মুন্সী মোহাম্মদ ওয়ারেছ উদ্দীন অত্যন্ত ধর্মভীরু মানুষ ছিলেন।
অল্পবয়সেই পিতৃহারা হওয়ার কারণে মুন্সী মেহেরউল্লাহ লেখাপড়া বেশিদূর করতে পারেন নি। তাই মায়ের তত্ত্বাবধানে ও নিজের চেষ্টায় তাঁর লেখাপড়া চলতে থাকে।
কৈশোর বয়সে তিনি মৌলভী মেসবাহউদ্দীনের কাছে তিন বছর এবং পরে করচিয়া গ্রামের মুহাম্মদ ইসমাঈল সাহেবের কাছে আরো তিন বছর আরবী, ঊর্দূ, ফারসী ভাষা ও সাহিত্য শিখেন। অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কোরআন ও হাদীসে মোটামুটি জ্ঞান অর্জন করেন এবং শেখ সাদীর গুলিস্তা, বোস্তা ও পান্দেনামা মুখস্ত করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি যশোর জেলা বোর্ডে একটি চাকুরি পান কিন্তু স্বাধীন মনোভাবের কারণে সে চাকুরী ছেড়ে দর্জির কাজ শুরু করেন। দর্জির কাজে তিনি প্রভূত সুনাম অর্জন ও সাফল্য লাভ করেন। সেই সূত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও তাঁর খরিদ্দার ছিলেন এবং তাঁকে দার্জিলিং নিয়ে দোকান করে দেন।
যশোর শহরের কেন্দ্রস্থল দড়াটানায় দর্জির দোকানে কাজ করতে করতে মুন্সী মেহেরউল্লাহ দেখতেন খৃস্টান মিশনারীদের কার্যকলাপ। মিশনারীদের ভয়ভীতি ও প্রলোভনের ফলে প্রচুর নিম্নবর্ণের হিন্দু ও দরিদ্র মুসলমান খৃস্টান ধর্মের দীক্ষিত হয়ে যাচ্ছিল। কোনও রাজনৈতিক নেতাকে এগিয়ে আসতে না দেখে এর বিরুদ্ধে তরুণ দর্জি মুন্সী মেহেরউল্লাহ গর্জে উঠলেন সিংহের মত।
দার্জিলিং অবস্থানকালে তিনি বেদ, উপনিষদ, গীতা, বাইবেল, ত্রিপিটক, গ্রন্থসাহেব প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়লেন। এ সময় তিনি তোফাজ্জল মুকতাদী নামক একটি ঊর্দূগ্রন্থ হতে বিভিন্ন ধর্মের ত্রুটি বিচ্যূতিগুলি জেনে নিলেন। তাছাড়া হযরত সোলায়মান ওয়ার্সীর লেখা ‘কেন আমার পৈত্রিক ধর্ম ত্যাগ করেছিলাম’, ‘প্রকৃত সত্য কোথায়’ বই দুটি তার জ্ঞানের পরিধিকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিল।
তিনি দার্জিলিং হতে ফিরে এলেন যশোরে। খৃস্টানদের মতই তিনি দড়াটানা মোড় হতে বাংলা আসাম ও ত্রিপুরার অলিতে গলিতে সভা সমাবেশ করে খৃস্টান ধর্মের অসারতা প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন। এ প্রচারকে বেগবান করার জন্য কোলকাতার নাখোদা মসজিদে বসে মুনসী শেখ আবদুর রহীম ও মুনসী রিয়াজুদ্দীন আহমদ প্রমুখ বিচক্ষণ ব্যক্তিদের সহযোগিতায় গঠন করলেন নিখিল ভারত ইসলাম প্রচার সমিতি। সমিতির পক্ষ হতে বাংলা ও আসামে ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব দেয়া হয় মুনসী মেহেরউল্লা ওপর।
মুনসী মেহেরউল্লার জ্বালাময়ী ও যুক্তিপূর্ণ বক্তৃতায় মানুষ দলে দলে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে স্থান নিতে লাগল। যাদের মনে ঘুণ ধরেছিল তারা আবার মনটাকে ঠিক করে নিল। জনমিরুদ্দীনের মত তুখোড় খৃস্টানও কলেমা পড়ে পুনরায় মুসলমান হয়ে গেলেন।
তিনি যে শুধু বক্তৃতা দিতে পারতেন তা নয়, তাঁর কলমের ধারও ছিল দু’ধারী তলোয়ারের মত। জন জমিরুদ্দীন ১৮৯২ খৃস্টাব্দে খৃস্টান বান্ধব পত্রিকায় ‘আসল কোরআন কোথায়’ শিরোনামে একটি উদ্ধত্যপূর্ণ প্রবন্ধ লিখেন। এতে জন সাহেব প্রমাণ করার চেষ্টা করেন আসল কোরআন কোথাও নেই। এহেন অযৌক্তিক প্রবন্ধের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেন মুনসী মেহেরউল্লাহ ‘সুধাকর’ পত্রিকায় ‘ইসায়ী বা খৃস্টানী ধোকা ভঞ্জন’ শিরোনামের এক গবেষণামূলক প্রবন্ধে। এরপর জন জমিরুদ্দীন সুধাকরে অপর একটি ছোট প্রবন্ধ লিখেন। উত্তরে মেহেরউল্লাহ ‘আসল কোরআন সর্বত্র’ শিরোনামের সুধাকরে অন্য একটি সারগর্ভ প্রবন্ধ লেখেন। উক্ত প্রবন্ধ প্রকাশ হওয়ার পর বিরোধী মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এই সময়ে নিকোলাস পাদ্রী অঘোরনাথ বিশ্বাস, রেভারেন্ড আলেকজান্ডার প্রমুখ খৃস্টান ধর্মপ্রচারকগণ মুনসী মেহেরউল্লার সাথে তর্কযুদ্ধে পরাজিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
মুনসী মেহেরউল্লা শুধু খৃস্টানদের অপপ্রচারের বিরুদ্ধেই আন্দোলন করেন নি, তিনি মুসলমানদের মধ্যে যে সমস্ত কুসংস্কার, শিরক ও বিদআত এর শিকড় গজিয়ে উঠেছিল সেসবের বিরুদ্ধেও ছিলেন খড়গহস্ত।
মুনসী মেহেরউল্লা শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে পথিকৃতের ভূমিকা রাখেন। তিনি নিজেই ১৯০১ সালে নিজ গ্রামের পাশের গ্রাম মনোহরপুরে মাদরাসায়ে কারামাতিয়া নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন যেটা বর্তমানে মুনসী মেহেরউল্লা একাডেমী। তিনি বাংলা আসামের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছেন। তিনি মুসলিম সমাজকে তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে শিক্ষার গুরুত্ব বুঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
আমরা এখন সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর জন্য বক্তৃতা বিবৃতি দিই, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা স্মরণ করে ২১শে ফেব্রুয়ারী ভাষা দিবস উদযাপন করি। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, এরও অনেক আগে অল্প শিক্ষিত মুনসী মেহেরউল্লা মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা কি তা হাড়ে হাড়ে বুঝে ছিলেন। যারা মাতৃভাষাকে ছোট করে দেখতো তাদের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, “মাতৃভাষা বাংলায় লেখাপড়ায় এত ঘৃণা যে, তাহারা তাহা মুখে উচ্চারণ করাই অপমানজনক মনে করেন। এই অদূরদর্শিতার পরিণাম যে কি সর্বনাশা তাহা ভাবিলে শরীর শিহরিয়া ওঠে। যে দেশের বায়ু, জল, অন্ন, ফল, মৎস, মাংস, দুগ্ধ, ঘৃত খাইয়া তাহার শরীর পরিপুষ্ঠ সে দেশের ভাষার প্রতি অনাদর করিয়া তাঁহারা যে কি সর্বনাশের পথ উন্মুক্ত করিতেছে তাহা ভাবিলেও প্রাণে এক ভীষণ আতঙ্ক উপস্থিত হয়।”
উপস্থিত বুদ্ধি মুনসী মেহেরউল্লার এত প্রখর ছিল যে, তৎকালীন সময়ে মুসলমান, হিন্দু ও খৃস্টান সমাজে তাহার সমকক্ষ আর কেউ ছিল না বললেই চলে। উপস্থিত তর্কে তিনি কারো কাছে পরাজিত হয়েছেন এমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না। বরং বাংলা আসামের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি সম্বন্ধে নানা কিংবদন্তী ছড়িয়ে আছে।
মুন্সী মেহেরউল্লা রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহঃ
‘মেহেরুল এছলাম’, ‘হিন্দু ধর্ম রহস্য ও দেবলীলা’, ‘বিধবা গঞ্জনা’, ‘রদ্দে খৃস্টান’ ও ‘দলিলুল এছলাম’ । তাঁর লেখা সাধারণ পাঠকের কাছে খু্বই জনপ্রিয় ছিল।
সাহিত্য সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনেকেই তাঁর সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছেন এবং পরবর্তীকালে তাঁরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে যে নামগুলি উল্লেখযোগ্য তাঁরা হলেন- সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, শেখ হবিবর রহমান সাহিত্যরত্ন, কবি গোলাম হোসেন, মুন্সী শেখ জমিরউদ্দীন বিদ্যাবিনোদ, মওলানা আকরাম খাঁ প্রমুখ।
১৯০৭ সালে মাত্র ৪৫ বছর বয়সে অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে ইসলামী রেনেসাঁর এ অগ্রনায়ক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং নিজ বাসভবনে ইন্তিকাল করেন।
আজ মুনসী মেহেরউল্লা আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু আছে তাঁর কর্মময় জীবন, আছে তাঁর রচিত সাহিত্য। কি করে একজন সামান্য শিক্ষিত এতিম বালক পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসের জোরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠতে পারে, কি করে খৃস্টান মিশনারীদের অপতৎপরতার হাত হতে স্ব-সমাজকে রক্ষা করতে পারে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ মুনসী মেহেরউল্লা। ছোট বড় সবার উচিত তাঁর জীবন হতে শিক্ষা গ্রহণ করা। তাঁর কর্মময় জীবনের এবং সাহিত্যের ব্যাপক প্রচারও আমাদের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজন।
অনল প্রবাহের কবি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন মুন্সীজির খুব স্নেহধন্য।
তাঁর ‘অনল প্রবাহ’ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের ব্যবস্থাও করেছিলেন মুন্সী
মেহেরউল্লা। মুন্সীজির মৃত্যুতে কবি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ‘শোকোচ্ছ্বাস’ নামে যে কবিতাটি রচনা করেছিলেন সেটি এখানে তুলে ধরা হল-
‘‘একি অকস্মাৎ হল বজ্রপাত। কি আর লিখিবে কবি।
বঙ্গের ভাস্কর প্রতিভা আকর অকালে লুকাল ছবি।
কি আর লিখিব কি আর বলিব, অাঁধার যে হেরি ধরা।
আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়িল খসিয়া কক্ষচ্যুত গ্রহ তারা।
কাঁপিল ভূধর কানন সাগর প্রলয়ের প্রভঞ্জনে,
বহিল তুফান ধ্বংসের বিষাণ বাজিল ভীষণ সনে!
ছিন্ন হ'ল বীণ কল্পনা উড়িল কবিত্ব পাখী,
মহা শোকানলে সব গেল জ্বলে শুধু জলে ভাসে অাঁখি।
কি লিখিব আর, শুধু হাহাকার শুধু পরিতাপ ঘোর,
অনন্ত ক্রন্দন অনন্ত বেদন রহিল জীবনে মোর।
মধ্যাহ্ন তপন ছাড়িয়া গগন হায়রে খসিয়া প'ল,
সুধা মন্দাকিনী জীবনদায়িনী অকালে বিশুষ্ক হ'ল।
বাজিতে বাজিতে মোহিতে মোহিতে অকালে থামিল বীণ,
প্রভাত হইতে দেখিতে দেখিতে অাঁধারে মিশিল দিন।
মলয় পবন সুখ পরশন থামিল বসন্ত ভোরে,
গোলাপ কুসুম চারু অনুপম প্রভাতে পড়িল ঝরে।
ভবের সৌন্দর্য্য সৃষ্টির ঐশ্বর্য্য শারদের পূর্ণ শশী,
উদিতে উদিতে হাসিতে হাসিতে রাহুতে ফেলিল গ্রাসি।
জাগিতে জাগিতে উঠিতে উঠিতে নাহি হ'ল দরশন,
এ বঙ্গ-সমাজ সিন্ধুনীরে আজ হইলরে নির্গমন।
এই পতিত জাতি অাঁধারেই রাতি পোহাবে চিরকাল,
হবে না উদ্ধার বুঝিলাম সার কাটিবে না মোহজাল।
সেই মহাজন করিয়া যতন অপূর্ব বাগ্মিতাবলে,
নিদ্রিত মোসলেমে ঘুরি গ্রামে গ্রামে জাগাইলা দলে দলে।
যার সাধনায় প্রতিভা প্রভায় নূতন জীবন ঊষা,
উদিল গগনে মধুর লগনে পরিয়া কুসুম ভূষা।
আজি সে তপন হইল মগন অনন্ত কালের তরে,
প্রবল অাঁধার তাই একেবারে আবরিছে চরাচরে।
বক্তৃতা তরঙ্গে এ বিশাল বঙ্গ ছুটিল জীবন ধারা,
মোসলেম-বিদ্বেষী যত অবিশ্বাসী বিস্ময়ে স্তম্ভিত তারা।
হায়! হায়! হায়! হৃদি কেটে যায় অকালে সে মহাজন,
কাঁদায়ে সবারে গেল একেবারে অাঁধারিয়া এ ভুবন।
কেহ না ভাবিল কেহ না বুঝিল কেমনে ডুবিল বেলা,
ভাবিনি এমন হইবে ঘটন সবাই করিনু হেলা।
শেষ হল খেলা ডুবে গেল বেলা অাঁধার আইল ছুটি,
বুঝিবি এখন বঙ্গবাসিগণ কি রতন গেল উঠি।
গেল যে রতন হায় কি কখন মিলিবে মাজে আর?
মধ্যাহ্ন তপন হইল মগন বিশ্বময় অন্ধকার।'
তথ্যসূত্রঃ ১। উইকিপিডিয়া, ২। মুন্সী মেহেরউল্লা-কবি নাসির হেলাল, ৩। পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন নিবন্ধ।
বিষয়: সাহিত্য
২৬২৬ বার পঠিত, ২৫ টি মন্তব্য
পাঠকের মন্তব্য:
আপনার মতো অন্যরাও এভাবে এসব মনীষি সম্পর্কে জীবন-কর্ম সম্পর্কে কী-বোর্ড চালনা করুক এ আশা-ই করছি।
জাযাকাল্লাহ খাইরান ফিদদুনিয়া ওয়া আখেরাহ।
আপনার মন্তব্যে সম্পূর্ণ একমত
অপপ্রচার ও মিথ্যা ইতিহাসের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া রেনেসাঁর এসব মনীষীদের তুলে ধরার একটি উদ্যোগ নিয়েছি। সাথে থাকুন, সামনে আরো থাকবে ইনশাল্লাহ।
জাযাকাল্লাহ খাইরান ফিদদুনিয়া ওয়া আখেরাহ।
অপপ্রচার ও মিথ্যা ইতিহাসের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া রেনেসাঁর এসব মনীষীদের তুলে ধরার একটি উদ্যোগ নিয়েছি। সাথে থাকুন, সামনে আরো থাকবে ইনশাল্লাহ।
অপপ্রচার ও মিথ্যা ইতিহাসের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া রেনেসাঁর এসব মনীষীদের তুলে ধরার একটি উদ্যোগ নিয়েছি। সাথে থাকুন, সামনে আরো থাকবে ইনশাল্লাহ।
স্টিকি হওয়ার দাবি রাখে।
অপপ্রচার ও মিথ্যা ইতিহাসের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া রেনেসাঁর এসব মনীষীদের তুলে ধরার একটি উদ্যোগ নিয়েছি। সাথে থাকুন, সামনে আরো থাকবে ইনশাল্লাহ।
শুভ কামনা।
অনেক ধন্যবাদ এই সুন্দর পোষ্টটির জন্য।
১৯৯৫ সালে কবি সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার তার বিটিভি কে সম্প্রচারিত "কথামালা" অনুষ্ঠানটিতে মুনসি মেহেরুল্লাহ এর উপর একটি পুর্নাঙ্গ অনুষ্ঠান করেছিলেন। সেখানে তার বাড়ি ও দেখান হয়েছিল। এছাড়া বোধ হয় আর কোন ভিজুয়াল মিডিয়াতে তাকে নিয়ে কোন অনুষ্ঠান হয়নি। অথচ তার জিবন নিয়ে নাটক রচিত হতে পারে। বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য তার প্রতিষ্ঠিত মা্দ্রাসায় বাংলা ও ইংরেজি পড়ানর ও ব্যবস্থা ছিল যার জন্য সেসময় অনেক তথাকথিত মেীলভি তার বিরোধিতা করেছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনাও বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি অসুষ্থ হয়ে পড়লে যশোর শহরের একজন হিন্দু ডাক্তার তার চিকিৎসা করছিলেন। কিন্তু তাতে তার রোগ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তার সাথি ও সহৃদ মুনশি জমিরুদ্দিন এ জন্য মুসলিম ডাক্তার আনতে কলকাতায় যান। ইতঃমধ্যে তার অবস্থা আরো খারাপ হলে সেই ডাক্তারকেই আবার খবর দেয়া হয়। তিনি এসে একটি ওষুধ খাওয়াতে দেন। মুনশি মেহেরুল্লাহর স্ত্রী এই ওষুধ খাওয়ানর পরেই তিসি ইন্তেকাল করেন। যার জন্য তার স্ত্রী সবসময় আক্ষেপ করতেন যে আমি নিজ হাতে তাকে বিষ খাওয়ালাম। এই ঘটনার কথা মুনশি মেহেরুল্লাহর কনিষ্ঠ সন্তান মুনসি মোখলেসুর রহমান ১৯৮৮ সালে কবি নাসির হেলাল কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে উল্লেখ করেন। মুনসি মেহেরুল্লাহর সমসাময়িক বন্ধুদের লিখায় ও এর উল্লেখ আছে।
অপপ্রচার ও মিথ্যা ইতিহাসের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া রেনেসাঁর এসব মনীষীদের তুলে ধরার একটি উদ্যোগ নিয়েছি। সাথে থাকুন, সামনে আরো থাকবে ইনশাল্লাহ।
আমার বেশ কয়েকটা পোস্টে এডমিনবৃন্দ তারা মুসলিম নয় বা মুসলিমদের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তান - তা তারা প্রকারান্তরে অস্বীকার করেছিলেন ।
লেখককে মুনশী মেহরুল্লাহ রচনাবলী-বইটার কথা উল্লেখ করার জন্য অনুরোদ করছি । এই বইটাতে তার সব লেখা সংরক্ষিত আছে । প্রকাশ করেছে জামায়াতীদের প্রকাশনী আধুনিক প্রকাশনী । বইটা জনপ্রিয় হওয়ায় সব কপি শেষ হয়ে গেছে । আবারও বইটা বের হবে । ছাপাখানায় যন্ত্রস্হ অবস্হায় আছে । ;
হবে না উদ্ধার বুঝিলাম সার কাটিবে না মোহজাল।"
বর্তমানে এ লাইনদুটি ফলপ্রসূ হচ্ছে৷ একজন নিঃস্বার্থ দাঈর সন্ধান পেলাম৷ এই বাহিনীর দ্িতী সেপাাই আমদেদ দীদাত ও তাঁর পরে ডাঃ জাকির নায়েক৷ ধন্যবাদ৷
অপপ্রচার ও মিথ্যা ইতিহাসের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া রেনেসাঁর এসব মনীষীদের তুলে ধরার একটি উদ্যোগ নিয়েছি। সাথে থাকুন, সামনে আরো থাকবে ইনশাল্লাহ।
স্টিকি করার দরকার নাই!!!
মন্তব্য করতে লগইন করুন