'CGPA' সিস্টেম- প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের জন্য একটি ভয়াবহ মরন ফাঁদ !

লিখেছেন লিখেছেন নীলসালু ২৭ জুলাই, ২০১৫, ০৮:০৬:২২ রাত



ইস্ট ওয়েস্ট এর মত ভার্সিটিতে 60 যদি পাশমার্ক হয়, তাহলে কেন একজন শিক্ষার্থী 60 মানে D (CGPA-1.00) পেয়ে পাশ করেও cGPA-2 (C+) না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারেনা। প্রোবেশনে পড়ে বের হয়ে যেতে হয়। এটা কেমন নিয়ম?!

কেনো একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে হলে 70 মানে C+ (2.00) সিজিপিএ রাখতেই হবে? যদি 2 রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে হয়, গ্রাজুয়েশন এর শর্ত থাকে, তাহলে D, D+ তুলে দেয়া হোক। C পেয়েই সবাই পাশ করবে। D, D+ এসব গ্রেড পয়েন্ট রাখার তো কোন দরকার নেই। সে কত সিজিপিএ নিয়ে গ্রাজুয়েট হবে এটা একান্ত তার সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। ফাইনাল সেমিস্টারে গিয়েও প্রবেশনে পড়ায় বের হয়ে যেতে হয়েছে এমন প্রচুর রেকর্ড আছে। এতটুকু মার্সি পায়নি তারা।

এখানে শুধু ইস্ট ওয়েস্ট এর সিস্টেম কে একটা এক্সাম্পল হিসেবে দেয়া হলো। বড় প্রায় সব ভার্সিটিতে এই সমস্যা গুলো আছে।

একটা শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর সবকিছু বুঝে উঠতেই অন্তত ২ সেমিস্টার লাগে। আর সে যদি প্রথম ২ টা সেমিস্টারেই এই প্রবেশন সিস্টেমের জটিল ধাঁধায় আটকে যায়, কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হবার পথে, তাহলে আর একটা সেমিস্টারে সে এটা কভার করবে কিভাবে?!!

.....পর পর ৩ সেমিস্টার বিলো প্রবেশন লেভেলে থাকলে তাকে বের করে দিবে ভার্সিটি। How funny!!!

এই ধান্দবাজির প্রবেশন আসলে কোন বৈধ সিস্টেম নয়। এটা ব্যাবসায়িক ধান্দা। প্রতি সেমিস্টারে ধরে নিলাম ২০০ বের হয়ে যাচ্ছে (মুল সংখ্যা এর চেয়ে বেশিই হবে) এই ফাঁদে পড়ে মানে ২০০ জনের প্রতিজন অন্ততপক্ষে ৩ সেমিস্টারে ১.৫ লক্ষ টাকা পেমেন্ট করে ভার্সিটি ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

টোটাল অর্থের অংক দাড়ায় প্রতি ৩ সেমিস্টারে ৩ কোটি টাকা!!!

৩ কোটি, তেমন কোন খরচ ছাড়াই ভার্সিটির আয়। এই পরিমান টাকা দিয়েও তারা ভার্সিটি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে!!

সেখানে আবার তাদের শুন্যস্থান হিসেবে নতুন সিট খালি হওয়ায় নতুন ভর্তি হচ্ছে নতুন করে টাকা আসছে। সেই নতুনদের মধ্যেও কিছু আবার প্রোবেশন খাচ্ছে। একটি চক্রাকার খুবই লাভজনক ব্যাবসা।

ইস্ট ওয়েস্টে আরো একটা বড় গলদ হলো, 1.3 এর পর 1.7, 2.3 এর পর 2.7, 3.3 এর পর 3.7। মাঝের 1.5, 2.5, 3.5 ব্যালেন্স নম্বরগুলো নেই গ্রেড সিস্টেমে। এক লাফে 0.3 থেকে 0.7 ডিফারেন্স মানে 0.4 ডিফারেন্স!!!

বাট 3.3 মানে B+ পেতে আপনাকে মার্ক পেতে হচ্ছে 83 আর মাত্র 3 মার্কের ব্যাবধানে 87 এ আরেকজন পাচ্ছে 3.7 মানে A- গ্রেড।

ভাবা যায়! কত বড় বৈষম্য!! মাত্র ৩ মার্কের ব্যাবধানে CGPA এক লাফে কত নিচে বা কত উপরে চলে যাচ্ছে!! কিন্তু দেখার কেউ নেই!

এটা শুধু ইস্ট ওয়েস্ট নয়, North South, BRAC, AIUB, IUB সহ অনেক বড় ভার্সিটিগুলোতে এই সেইম সমস্যা আছে। দেখার যেন কেউ নেই।

UGC প্রণীত গ্রেডিং সিস্টেম ফলো করলে দেখা যায়, 80 তে A+ (4.00) এবং 40 এ পাশ মানে D গ্রেড জিপিএ 2.00 তে রেখে গ্রেডিং সিস্টেম প্রণয়ন করা হয়েছে।

যেখানে 1 এর ঘরে কোন জিপিএ সিস্টেম নেই। কিন্তু নামধারী বড় বিশ্ববিদ্যালয় গুলো এই প্রোবেশন ব্যাবসার খাতিতে তাদের নিজস্ব গ্রেডিং সিস্টেম এপ্রুভ করিয়ে নিয়ে 1 এর ঘরে D গ্রেড রেখে 60 বা তার উপরে পাশ মার্ক রাখছে। আর 90 বা তার উপরে A+

........মানে এসব ভার্সিটিতে একজন শিক্ষার্থী 60 পেয়ে পাশ করলে তার GPA হবে 1.00 কিন্তু প্রোবেশন নিয়মে পরে 70 বা ততোধিক নম্বর পেয়ে কোথাও 2 বা কোথাও তার ও বেশি না পেলে ভার্সিটি থেকে বের করে দিবে। কি নির্মম!!

সব শিক্ষার্থীর 70 বা ততোধিক নম্বর পাওয়ার যোগ্যতা থাকবে এটা তো ঠিক নয়। যেখানে এসব ভার্সিটিতে 69 পেয়েও অনেকে থাকতে পারছেনা সেখানে সরকারী সহ আরো অনেক প্রাইভেট যারা ইউজিসির গ্রেড সিস্টেম ফলো করে তারা 10 ব্যাবধান 80 তে A+ পেয়ে যাচ্ছে। কতোটা হাস্যকর!!!

চাকরীর বাজারে কেউ দেখেনা কিন্তু ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, ব্র্যাক কত নম্বর পেলে A+ দিচ্ছে। তারা শুধু দেখে আপনার টোটাল সিজিপিএ টা কত। 3 এর কত উপরে বা নিচে 3.00 কে ফার্স্টক্লাশ ধরে। কেউ 80 পেয়েও 3 বা ফার্স্টক্লাশ পাচ্ছেনা আর কেউ 80 তে 4.00 মানে এ প্লাস পাচ্ছে।

UGC রুলে দেখা যায় A+, A, A-, B+, B, B-, C+, C, D এর জন্য গ্রেড পয়েন্ট যথাক্রমে 4.0, 3.75, 3.5, 3.25, 3.00, 2.75, 2.5, 2.25, 2.00 এভাবে বিন্যাস করা আছে। এখানে C- এবং D+ বলে কিছু নেই। আর প্রতি 0.25 ব্যাবধানে গ্রেড দেয়া আছে। আর 40 থেকে 80 নম্বরের ভিতরে প্রতি 5 ব্যাবধানে গ্রেড পরিবর্তন রাখা হয়েছে।

সেখানে বড় ভার্সিটিগুলো C-, D+ এসব রেখে ইচ্ছেমত নিজেদের গ্রেড সাজিয়ে নিয়েছে। কোথাও 90 কোথাও 97 তে এ প্লাস। চাকরী বা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কেউ দেখবেনা কত নম্বর পেয়েছেন, দেখবে টোটাল CGPA কত। আর সেখানেই প্রতিদ্বন্ধিতায় নামার আগেই সরকারী বা ইউজিসি রুল ফলো করা ভার্সিটিগুলোর কাছে হার মেনে যাচ্ছে অন্যরা। একই দেশে কেন থাকবে এই অসম গ্রেডিং?

যেখানে ৪ টা পাবলিক পরীক্ষায় সবাই একই গ্রেড স্কেল পার হয়ে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হচ্ছে। তারা কেন উচ্চশিক্ষায় এই বৈষ্যমের আর প্রতারণার শিকার হবে?!!

সাথে ভ্যাটের বোঝা তো আছেই..... Sad

বিষয়: বিবিধ

৩২৬৭ বার পঠিত, ৭ টি মন্তব্য


 

পাঠকের মন্তব্য:

332043
২৭ জুলাই ২০১৫ রাত ০৮:২০
এ,এস,ওসমান লিখেছেন : আমি পাইভেট ভার্সিটির শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার সাথে সহমত জানায়।
২৭ জুলাই ২০১৫ রাত ০৮:৪৯
274297
নীলসালু লিখেছেন : ধন্যবাদ
332059
২৭ জুলাই ২০১৫ রাত ১০:১০
আবু জারীর লিখেছেন : সব জায়গায়ই শুধু ধোকাবাজি।
ধন্যবাদ।
332063
২৭ জুলাই ২০১৫ রাত ১০:১৪
রিদওয়ান কবির সবুজ লিখেছেন : ব্যাবসার নতুন ধরন!!
332085
২৭ জুলাই ২০১৫ রাত ১১:৩৯
বাকপ্রবাস লিখেছেন : এই দেশের স্বাধীনতা নিয়ে ধান্দাবাজী হয় সুতরাং এর প্রভাব তো পড়বেই সব জায়গায়
332122
২৮ জুলাই ২০১৫ রাত ০৩:২৫
আনিস শাবি লিখেছেন : ভালো লাগলো
332163
২৮ জুলাই ২০১৫ সকাল ১০:৩৫
মু নূরনবী লিখেছেন : আমিও মাইনকা চিপায় আছিরে ভাই!

এনএসইউ তে...সেইম অবস্থা!

প্রথম সেমিস্টাবে ইএমবিএ তে একটা কোর্স ছিল বি প্লাস মানে ৮০ না পেলে ফেইল!

কি কমু....৪৪ জনে ১৮ জন পাশ করছি! Worried

মন্তব্য করতে লগইন করুন




Upload Image

Upload File